পিতার জায়নামাজ

শিশির মোরশেদ
যখন সন্ধ্যা নেমে আসতো মধ্যবিত্ত সংসারে

মা দৌড়াতো চেরাগ নিয়ে,বোন দৌড়াতো ছোটভাইকে নিয়ে

আগুন জ্বালানোর মত সামান্য শলাকাটুকুও থাকতোনা

আমাদের

মাঝেমধ্যে

আঁধার একটু ঘনিয়ে এলে শুনতে পেতাম

বাবার

সাইকেলের বেলের ধ্বনি

আর তখন

ভাই বোন সবাই একসাথে দৌঁড়ে গিয়ে

সাইকেলের পেছনটা দ্যাখতাম

কাঁঠাল এনেছে কি না

আম এনেছে কি না

আনারস এনেছে কি না

আখ এনেছে কি না ইত্যাদি

বাবা কোনোদিন খালি হাতে ফিরে নি

আমাদের হাসিমুখ দ্যাখে

বাবা ভুলে যেতো তার

সারাদিনের ক্লান্তি, অভিযোগ এবং কষ্ট।

এশারের সময় হলে বাবা নামায শেষ করে জায়নামাজে বসতো

আমরা পড়ার টেবিল থেকে উঁকি মারতাম

এই বুঝি এখনই খাওয়ার জন্য ডাকবে বাবা

এবং ডাকতো

বাবার সাথে সবাই মিলে হাসিমুখে খেতে খেতে

কতোই না গল্প করতাম

চুলোতে লাকড়ি জ্বালাতে জ্বালাতে মা দ্যাখতো

মা আমাদের সাথে খেতো না

মাঝেমধ্যে খেতো, মায়েরা শেষে খায়

অতঃপর ধীরে ধীরে

সে রাতের জায়নামাজ,সে রাতের হাসিমুখ

অনেক বড় গয়ে গ্যাছে

বাবা চাকরি থেকে রিটায়ার্ড নিলো

বোনেরা চলে গেলো যে যার শ্বশুর বাড়ি

ভায়েরা একেকজন

একেক কর্মস্থলে

বাবার সাইকেল এখনো আছে

জায়নামাজও আছে

তবে সন্ধ্যা হলে এখন আর বাবার পথ চেয়ে থাকিনা

এশার নামাযের পর বাবা কিছু খেতে ডাকবে

সে আশায়ও থাকি না

বাবা এখন বিছানায় শুঁয়ে শুঁয়ে মৃত্যু প্রহর গোনে

আর

আমরা আছি যে যার মতো।


এ বিভাগের আরো খবর...
সঙ্গী হবে? সঙ্গী হবে?
হারিয়ে যাচ্ছি হারিয়ে যাচ্ছি
শরৎকাল শরৎকাল
রক্তের একুশ রক্তের একুশ
ছিঁড়া সম্পর্ক ছিঁড়া সম্পর্ক
কলসিকাঁখে কলসিকাঁখে
আমি বিবেক দিয়েছি বন্ধক আমি বিবেক দিয়েছি বন্ধক
মানব মানব
প্রতারক প্রেমিক প্রতারক প্রেমিক

পিতার জায়নামাজ
(সংবাদটি ভালো লাগলে কিংবা গুরুত্ত্বপূর্ণ মনে হলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন।)
tweet

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)