‘জঙ্গিদের প্রতিরোধ করতেই যুদ্ধে নামি’

 ---

ঢাকা: ‘ব্যারাক থেকে সংবাদ পেয়ে টিমের সঙ্গে দ্রুত চলে যাই গুলশানে। জঙ্গিদের প্রতিরোধ করার টার্গেটেই ‘যুদ্ধে’ নামি। ঠিক পরিকল্পনা অনুযায়ী জঙ্গিদের মোকাবেলায় অগ্রসর হই। এমন সময় ভেতর থেকে জঙ্গিদের ছোড়া একটি গ্রেনেড আমাদের সামনে এসে পড়ে। এরপর আর কিছু মনে নেই।’

রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কে এমনটাই বলেছেন সুজন কুমার কুণ্ডু।

তিনি কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের ‘স্পেশাল ওয়েপন অ্যান্ড ট্যাকটিক্স’ (সোয়াট) টিমের উপ-পরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত।

গত ০১ জুলাই (শুক্রবার) রাতে গুলশানের ‘হলি আর্টিসান বেকারি’ রেস্টুরেন্টে জিম্মিদশার ঘটনায় জঙ্গিদের ছোড়া গ্রেনেডের আঘাতে গুরুতর আহত হন সুজন কুণ্ডু। তার পুরো শরীরে স্প্লিন্টার ঢুকেছে, মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন।

হাসপাতালে নেওয়ার পর প্রথমে তার অপারেশন করা হয়। এরপর ৪ দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে সোমবার (০৪ জুলাই) থেকে ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি কে বলেন, শেষ পর্যন্ত এ যুদ্ধে থাকতে পারিনি, এটা আমার দুর্ভাগ্য।

দেশের জন্য হাসিমুখে প্রাণ দিতে আমি প্রস্তুত। গুলশানে জঙ্গি অভিজানে যেকোনো পরিস্থিতির জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম বলেন সুজন কুণ্ডু।

হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বুক ও পেট ছাড়া মাথা, দুই পা ও দুই হাতে ব্যান্ডেজ লাগানো অবস্থায় বেডে পড়ে আছেন তিনি। এখনও শরীর নাড়াতে খুব কষ্ট হচ্ছে। পুরো শরীরে স্প্লিন্টারের ক্ষতে ব্যাথা আর জ্বালা-পোড়া হচ্ছে। আর বেডের পাশে দাঁড়িয়ে একটি কাগজ দিয়ে আহত সুজনকে বাতাস করছেন তারই বড় ভাই।

কেমন আছেন? জানতে চাইলে সুজন বলেন, ‘খুব অস্বস্তি লাগছে। অনেক গরম, এসিতে কাজ হয় না।’

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের বিশেষায়িত সোয়াট টিমের পুলিশ পরিদর্শক জুলহাস আকন্দ কে বলেন, আহতদের মধ্যে সুজনের অবস্থা সবচেয়ে গুরুতর ছিল। বুক এবং পেট বাদে সুজনের শরীরের সব অংশে স্প্লিন্টার ঢুকেছে।

তিনি বলেন, অপারেশন শেষে তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল। অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে ওয়ার্ডে দেওয়া হয়।

এর আগে, গুলশানের রেস্টুরেন্টে জিম্মি ঘটনার জঙ্গিদের ছোড়া গ্রেনেড বিস্ফোরণের পরপরই ঘটনাস্থল থেকে ছিটকে পরেন সোয়াটসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা। নিহত হন ডিবির সহকারী কমিশনার (এসি) রবিউল করিম এবং বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন খান। সোয়াট টিমের ৫ জনসহ ঘটনাস্থলে আহত হন ৩০ জনের বেশি পুলিশ সদস্য। আহত এসব পুলিশ কর্মকর্তাদের ‘জাতীয় বীর’ বলে আখ্যায়িত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

রাত পৌনে ৯টার দিকে ঢুকে ওই রেস্টুরেন্টে হত্যাযজ্ঞ চালায় জঙ্গিরা। এতে ১৭ জন বিদেশি, তিনজন বাংলাদেশিসহ ২০ জনের মৃত্যু হয়। জিম্মি উদ্ধার অভিযানে নিহত হয় ছয় জঙ্গি।

আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস নিহত পাঁচজনকে তাদের সদস্য বলে দাবি করলেও বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।


এ বিভাগের আরো খবর...
সিলেটের পথে খালেদা: শিবপুরে আ.লীগের বিক্ষোভ, বিএনপিকে লাঠিপেটা সিলেটের পথে খালেদা: শিবপুরে আ.লীগের বিক্ষোভ, বিএনপিকে লাঠিপেটা
নির্বাচন থেকে দুরে রাখতেই সরকারের মামলা: খালেদা নির্বাচন থেকে দুরে রাখতেই সরকারের মামলা: খালেদা
স্থায়ীভাবে বন্ধের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে কোচিং সেন্টার: শিক্ষামন্ত্রী স্থায়ীভাবে বন্ধের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে কোচিং সেন্টার: শিক্ষামন্ত্রী
১৫২ বছর পর পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ আজ ১৫২ বছর পর পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ আজ
সাদা পোশাকে গয়েশ্বরকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ সাদা পোশাকে গয়েশ্বরকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ
ইসির কাছে আওয়ামী লীগের ১১ প্রস্তাব ইসির কাছে আওয়ামী লীগের ১১ প্রস্তাব
আওয়ামী লীগের সঙ্গে ইসির সংলাপ শুরু আওয়ামী লীগের সঙ্গে ইসির সংলাপ শুরু
জঙ্গিদের ব্যবহৃত মোবাইল অ্যাপটির কথা স্বীকার করেছেন হাসনাত জঙ্গিদের ব্যবহৃত মোবাইল অ্যাপটির কথা স্বীকার করেছেন হাসনাত
তারা এখন বিএনপির নেতা-নেত্রী তারা এখন বিএনপির নেতা-নেত্রী

‘জঙ্গিদের প্রতিরোধ করতেই যুদ্ধে নামি’
(সংবাদটি ভালো লাগলে কিংবা গুরুত্ত্বপূর্ণ মনে হলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন।)
tweet

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)