মিতু হত্যার আসামি রাশেদ-নবী ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

---

ডেস্ক রিপোর্ট

এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ডে প্রধান সন্দেহভাজন দুইজন ‘বন্দুকযুদ্ধে’ পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন।

আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত পুলিশ ভিন্নখাতে নিতে চাইছে বলে পরিবারের অভিযোগের মধ্যেই এ ঘটনা ঘটল।

মঙ্গলবার সকালে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ঠাণ্ডাছড়িতে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে বলে রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি হুমায়ন কবিরের ভাষ্য।

নুরুল ইসলাম ওরফে রাশেদ (২৭) ও নুরুন্নবী (২৮) নামের ওই দুইজনসহ সন্দেহভাজন মোট পাঁচজনের দেশ ছাড়ায় এ আগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল পুলিশ।

ওসি বলেন, ‘ঠাণ্ডাছড়ি এলাকায় গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনাটি ঘটেছে।’

চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার বলেন, ‘আমাদের টিম এখনও ফিরে আসেনি। আসার পর বিস্তারিত জানতে পারব।’

গত ৫ জুন নগরীর জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় খুন হন চট্টগ্রামে বিভিন্ন জঙ্গি বিরোধী অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতু।

ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে আটজনকে গ্রেপ্তারের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও গত ২৬ জুন আনোয়ার ও মোতালেব মিয়া ওরফে ওয়াসিম নামে দুজনের গ্রেপ্তারের খবর জানায় পুলিশ।

এরপর ২৮ জুন নগরীর বাকলিয়া থানার রাজাখালী এলাকা থেকে এহতেশামুল হক ভোলা ও মনির হোসেন নামের দুইজনকে দুটি অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ বলছে, আদালতে জবানবন্দিতে ওয়াসিম ও আনোয়ার বলেছেন, মুছার ‘পরিকল্পনা অনুযায়ী’ এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। ওই জবানবন্দিতেই রাশেদ, কালু, শাহজাহান ও নবীর নাম আসে।

পরে ওই পাঁচজনের দেশ ছাড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির পর পুলিশ ১ জুলাই শাহজাহান ও মামলায় অন্যতম সন্দেহভাজন মুছার ছোট ভাই সাইদুল ওরফে সাকুকে গ্রেপ্তারের কথা জানায়।

এদিকে মিতু হত্যার তদন্ত নিয়ে রহস্য দিনদিনই বাড়ছে। পুলিশ প্রথমে এ হত্যার জন্য জঙ্গি গোষ্ঠীকে দায়ী করলেও পরে সে অবস্থান থেকে দৃশ্য সরে আসে। কোনো জঙ্গি সংগঠনও হত্যার দায় স্বীকার করেনি।

এরই মধ্যে রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত সৎ ও চৌকস পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারকে হত্যাকাণ্ডে ফাঁসিয়ে দেয়া ভয় দেখিয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তারা তাকে চাকরি ছাড়তে চাপ দিয়েছেন বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে।

মিতুর বাবা পুলিশের সাবেক ওসি মোশাররফ হোসেন অভিযোগ করেছেন তদন্ত অন্যদিকে নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তারা মনে করছেন।

মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘আমার মেয়ে হত্যার বিচার আমি চাই। আমার মেয়ে কোনো চাকরি বা ব্যবসা করতো না। কিন্তু পুলিশের তদন্তকারীরা হত্যাকাণ্ডের তদন্তের মুল জায়গা থেকে সরে যাচ্ছে বা এড়িয়ে যাচ্ছে। তদন্ত ডাইভার্ট করা হচ্ছে বা অন্যদিকে নেয়া হচ্ছে। কেন এটা করা হচ্ছে, সেটাই আমাদের প্রশ্ন।’

বাবুল আক্তারের স্বজনদের অভিযোগ, তার অভিযানে নাখোশ কোনো মহল মিত্যুকে খুন করে তার ওপর প্রতিশোধ নিয়েছে।


এ বিভাগের আরো খবর...
লালবোট ট্র্যাজেডিতে নিহত ১৮জনের স্মরণ ও নিরাপদ নৌ যাতায়াতের দাবীতে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত লালবোট ট্র্যাজেডিতে নিহত ১৮জনের স্মরণ ও নিরাপদ নৌ যাতায়াতের দাবীতে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত
কুমিরা ঘাটের কর্মচারী কাজলের দুর্ব্যবহারে লাঞ্চিত সাধারণ যাত্রী কুমিরা ঘাটের কর্মচারী কাজলের দুর্ব্যবহারে লাঞ্চিত সাধারণ যাত্রী
তৃতীয় পক্ষ কারা : ‘অব দ্য রেকর্ড’র নামে যারা ছড়াচ্ছেন কল্পকাহিনী তাদের আগে চিহ্নিত করার দাবি তৃতীয় পক্ষ কারা : ‘অব দ্য রেকর্ড’র নামে যারা ছড়াচ্ছেন কল্পকাহিনী তাদের আগে চিহ্নিত করার দাবি
চট্টগ্রামে মার্কেটে অগ্নিকাণ্ড, দোকান কর্মচারীর মৃত্যু চট্টগ্রামে মার্কেটে অগ্নিকাণ্ড, দোকান কর্মচারীর মৃত্যু
মিতু হত্যায় আরো দুজন গ্রেপ্তার মিতু হত্যায় আরো দুজন গ্রেপ্তার
সব কথা চাইলেও বলা যায় না, আমরা অনেক বিষয়ে এখন মন্তব্য করতে পারছি না : এসপির স্ত্রী মিতুর বাবা সব কথা চাইলেও বলা যায় না, আমরা অনেক বিষয়ে এখন মন্তব্য করতে পারছি না : এসপির স্ত্রী মিতুর বাবা
কার নির্দেশে খুন, জেনেও বলছে না পুলিশ কার নির্দেশে খুন, জেনেও বলছে না পুলিশ
মিতুকে গুলি করে ওয়াসিম, রেকিতে আনোয়ার মিতুকে গুলি করে ওয়াসিম, রেকিতে আনোয়ার

মিতু হত্যার আসামি রাশেদ-নবী ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত
(সংবাদটি ভালো লাগলে কিংবা গুরুত্ত্বপূর্ণ মনে হলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন।)
tweet

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)