গল্প-এক রত্তি ভালবাসা

---
এক রত্তি ভালবাসা
.
বর্ষার গোধুলি লগ্নে, বাহিরে হিমেল হাওয়া বইছে,ঝিরিঝিরি বৃষ্টি, কেয়া ফুলের কড়া গন্ধ ভেসে আসছে।আর গাছের মাথায় বসে থাকা সাদা বকটি হুহু করে কাঁপছে। প্রকৃতি কেমন যেন নতুন রূপ ধরেছে আজ।
রিমি জানালার গ্রিল ধরে দাড়িয়ে এসব দৃশ্য উপভোগ করছিল। আর কি যেন ভাবছিল।এমন সময় হঠাৎ তার মনে পড়ে গেল সেই প্রিয় মানুষটার কথা।যাকে ঘিরেই তার স্বপ্নের জাল বোনা,যাকে ছাড়া রিমির জীবন অস্তিত্বহীন। রিমির সেই কাঙ্খিত মানুষটার নাম রিহান।
সন্ধ্যা পেরিয়ে যাচ্ছে। রিহান এখনো বাসায় ফেরেনি।ফোনটাও সুইচ অফ।এ নিয়ে অনেক চিন্তিত।রিহানতো কখনো এমন করেনা,তাহলে আজ কেন এমন করছে?
কি হল তার? কোন বিপদ-টিপদ হইনিতো? রিমির মনে এরকম হাজার প্রশ্ন জেগে উঠে।
তাতে আবার সকাল বেলায় কিছু না বলেই বেড়িয়ে গেছে।এসব ভাবতেই কলিং বেলটা বেজে উঠল।রিমি দরজা খুলতেই।রিহান দরজাটা সজোরে ধাক্কা দিয়ে রুমের ভেতর ঢুকে পরে।
রিহান ভিশন রেগে বলে,দরজা খুলতে এত সময় লাগে? রিমি কি বলবে বুঝতে পারছেনা।
শুধু কৌতুহলী হয়ে রিহানের দিকে তাকিয়ে থাকে।
টেবিলে খাবার দিচ্ছি ফ্রেস হয়ে এসো।
তুমি খেতে নাও আমার খিদে নেই।
খিদে নেই মানে? খেয়ে এসেছ?
হুম
তুমিতো কখনো বাহিরের খাবার খাওনা।আজ হঠাৎ……………. (বলতে গিয়েই রিমির গলাটা ধরে আসে)
সবদিন কি আর কি একরকম যাবে নাকি?
কি হইছে তোমার আজ হঠাৎ এমন করছো কেন?
প্লিজ একবার বল আমার অপরাধটা কি?
যাওতো বিরক্ত করোনা।যত্তসব।
রিমি কাঁদতে কাঁদতে ঘরে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে আর রিহান একা বারান্দায় বসে থাকে।
সরি রিমি আমাকে তুমি ক্ষমা করে দিও।
আজ তোমাকে অনেক বড় একটা সারপ্রাইজ দিবো বলেই বাধ্য হয়ে তোমার সাথে খারাপ আচরণ করেছি।
আমাদের বিয়ের ২বছর পেরিয়ে গেছে তুমি ১দিনও মুখ ফুটে আমার কাছে কোন কিছু চাওনি।
আর আমিও তোমাকে দিতে পারিনি।এসব ভাবতে ভাবতে রিহান ওয়াল ক্লকের দিকে তাকিয়ে দেখে ১১:৫৫মিনিট বেজে গেছে।এ রে রিমিকেতো এখন ডেকে তুলতে হবে।রিহান রুমে চলে যায়।
এই রিমি উঠো না।
হুম (রিমি উঠে আবার শুয়ে পরে)
কি হল? আরে উঠে দেখই না।ক্যান্ডেলস গুলা তোমার জন্য অপেক্ষা করে আছে।
কি?
উফ! উঠছো না কেন?
আজকের দিনের কথা কি তোমার কিছুই মনে নেই? দেখ তোমার জন্য পুরো ঘরটা আলোকিত করে ফেলেছি।
এইবার রিমি উঠে কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকে।
Happy anniversary,Happy anniversary.
আজকের দিনের কথা তোমার মনে আছে? আমিতো ভাবলাম ভুলেই গেছ।
এমন দিনের কথা কখনো ভোলা যায় বলো? এবার কথা না বাড়িয়ে চোখটা বন্ধ কর।
কেন?
আহা! করই না।
আচ্ছা করছি।
রিহান পকেট থেকে স্বর্ণের হারটি বের করে রিমির গলায় পরিয়ে দেয়।
এই কি করছো তুমি?
এবার চোখ খোল।
রিমি চোখ মেলে তাকিয়েই রিহান কে জড়িয়ে ধরে। রিহান রিমির কপালে ১টা চুমু এঁকে দেয়।
আজ আমি পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি সুখি।
রিমি রিহানের বুকে মুখ লুকিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে থাকে।
এই পাগলি কাঁদছো কেন?
উফ! বড্ড খিদে পেয়েছে চলো খাবো।
.
__আজমিনা আক্তার রোদসী
কবিও গল্পকার,টাঙ্গাইল।


এ বিভাগের আরো খবর...
গল্প .. সাবিত্রী – গল্প .. সাবিত্রী –
‘সোনার খাঁচায় ময়না পাখি’ (২) ‘সোনার খাঁচায় ময়না পাখি’ (২)
গল্প–অসম প্রেম গল্প–অসম প্রেম
‘সোনার খাঁচায় ময়না পাখি’ (১) ‘সোনার খাঁচায় ময়না পাখি’ (১)

গল্প-এক রত্তি ভালবাসা
(সংবাদটি ভালো লাগলে কিংবা গুরুত্ত্বপূর্ণ মনে হলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন।)
tweet

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)